বিশ্বজুড়ে আলাদাভাবে উদ্বেগ বাড়ছে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে। কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়। এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছে, তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে নিরাপত্তা হুমকি নির্মূলের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি
বিশ্বজুড়ে আলাদাভাবে উদ্বেগ বাড়ছে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে। কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়। এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারে থাকা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম পৌঁছাতে পারে ১০০ ডলারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক উইলিয়াম জ্যাকসন বলেন, সংঘাত সীমিত থাকলেও দাম ৮০ ডলারে উঠতে পারে, এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে তা ১০০ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে।
শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিক্রি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভোলাটিলিটি সূচক ভিআইএক্স এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে, এবং মার্কিন বন্ড বাজারেও অস্থিরতা ১৫ শতাংশ বেশি। মুদ্রাবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। জুনের যুদ্ধের সময় ডলার সূচক ১ শতাংশ কমেছিল, যদিও তা কয়েক দিনের মধ্যেই ফিরে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সংঘাতে ডলার বেশিরভাগ মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী হতে পারে, তবে জাপানের ইয়েন এবং সুইজারল্যান্ডের ফ্রাঁ ব্যতিক্রম হতে পারে।
ইরানের পাল্টা হামলার পর ব্যাংক অব ইসরায়েলের শেকেলও নড়বড়ে হয়েছে। অতীতে এই পতন স্বল্পস্থায়ী ছিল। কিন্তু জেপি মরগ্যান জানায়, এবার সংঘাত দীর্ঘ হলে ছবি ভিন্ন হতে পারে।
নিরাপদ সম্পদের চাহিদা
স্বর্ণের মূল্য ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালে ২২ শতাংশ বেড়েছে এবং বাড়তি অস্থিরতায় এর চাহিদা আরো বাড়তে পারে। রুপার দামও শক্তিশালী। সুইস ফ্রাঁ নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে আরো চাপের মুখে পড়তে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের চাহিদাও বাড়তে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, বিটকয়েনকে এখন আর নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, যা শনিবার ২ শতাংশ কমেছে এবং গত দুই মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাজার নজরদারিতে
রোববার সৌদি আরব, কাতারসহ আঞ্চলিক বাজারগুলোর লেনদেন বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের প্রাথমিক ইঙ্গিত দেবে। সংঘাত বাড়লে উপসাগরীয় শেয়ারবাজার ৩-৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়তে পারে বলে জানান নিওভিশন ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী রায়ান লেমান্ড।
সৌদি বেঞ্চমার্ক সূচক পাঁচ দিনে ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, দুবাই বাজারও দুই সপ্তাহ ধরে নিম্নমুখী।
এয়ারলাইন ও প্রতিরক্ষা খাত
এছাড়া বিমান চলাচল খাতেও বড় ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার এবং ইউরোপীয় অস্ত্র নির্মাতাদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর তাদের শেয়ার এরইমধ্যে ১০ শতাংশ ওপরে।